Skip to main content

শব্দ-কল্প-দ্রুম

আপনারা মানবেন কিনা জানিনা ,কিন্তু আমার যেন মনে হয় প্রত্যেক পাড়ার , প্রত্যেক মহল্লার , প্রত্যেক শহরের যেন একটা আবহ আছে! যেমন আছে গন্ধ - বর্ণও । আমি তো তাই বুঝি যাকিছু ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য তাই দিয়ে । আমাদের রোজকার যাপনের পরিমণ্ডলে কিছু শব্দ ব্রম্ভ দিব্যি জেগে থাকে প্রতিদিনের নিত্যতা বোঝানোর জন্য বোধহয় । আমরাও অভ্যস্ত হয়ে পড়ি , এর কোনো একটা যদি কোনদিন বন্ধ থাকে একটু অন্য রকম লাগে,অবচেতনে প্রশ্ন জাগে , হয়তো আলাদ করে কিছু বুঝলাম না তবু কি একটা যেন নেই ! 
বেশ জটিল হয়ে যাচ্ছে তাই না ! মোদ্দাকথা কিছু শব্দ বা শব্দব্রম্ভ আমাদের অভ্যাসে থাকে রোজকার জীবন যাপনে , যা দিয়েও আমরা আমাদের পরিচিত নিজস্ব এলাকা, বাড়ি , একান্ত নিজস্ব ঘরটিকে চিহ্নিত করি , শুধু দৃষ্টিগোচর বস্তু দিয়ে নয়, শ্রুতি দিয়েও । 
এর সব শব্দ আমার বা আপনার ভালো লাগতে পারে , নাও লাগতে পারে , কিন্তু অভ্যাসে থাকছে । যেমন রোজ সকালে লক্ষীমাসির কলতলায় চিৎকার করে কথা বলা , মাছ বিক্রেতা ছেলেটির এক অদ্ভুত টানে ‘মাআআআছ চাই মাআআছ...” ডাক , রাস্তা দিয়ে টোটোওয়ালার “টেশন টেশন” আমন্ত্রণ , গাড়ির হর্নের কথা আর কি বলি ! সামনের মন্দিরে পেন ড্রাইভে বেজে চলা একটান শ্যাম সঙ্গীত “ মায়ের পায়ের জবা হয়ে...” বা অন্যান্য ...সামনের দোকানের শাটারের তীব্র ঘড়ঘড়ানি ঠিক একটি নির্দিষ্ট সময় ...সন্ধ্যারতির সময় যান্ত্রিক ঢাকের সঙ্গে কোনো এক শিশুর সত্যিঢাকের বেসুরো মকশো , সঙ্গে তীব্র ঘণ্টা ও কাঁসর ধ্বণি । এরই মধ্যে রয়ে যাচ্ছে কাছাকাছি দুটি মসজিদের আজানের লাউডস্পিকার-জাত শব্দ , আলাদা করে অন্তত তিনবার আমি টের পাই এই শব্দ , কিন্তু আলাদা করে এই কোনো শব্দকেই আলাদা করতে পারব না আমার শাব্দিক পরিমণ্ডল থেকে ! ঐ যে বললাম ! এই নিত্য শব্দগুলি যে আমার শব্দ ঠিকানা ! তীব্র হলেও , অনেক সময় যন্ত্রণার হলেও এই আমার এলাকার, মহল্লার , শহরের শব্দ পরিচয় ! 
অনেক সময়েই দেখবেন সিনেমাতেও এর ব্যাবহার , আজান বা আরতির শব্দ ব্যবহার হচ্ছে নিপুণভাবে আপনার মাথায় সেই পরিবেশটাকে এঁকে দেওয়ার জন্য । তাই এই আজান কি কেন , এই আরতির ঘণ্টা বা চার্চের ঘন্টাধ্বণি কি এবং কেন ,না থাকলেই বা কি এলো গেলো –এই আলোচনার পাশে একথা আমি বলতেই পারি এগুলি একটি আবহ ,যার সঙ্গে জড়িয়ে আমাদের নিত্য দিনযাপন ।
এবার বলাই যায় কারও এসবে অসুবিধা হলে , আপত্তি থাকলে তিনি কিন্তু বলতেই পারেন ! যেমন গায়ক শনু নিগম বলেছেন । বা অনেকেই অনেক সময় বলেছেন , এবং এই আপত্তির কারনে নিগৃহীতও হতে হয়েছে , শিবরাত্রিতে বিকট আওয়াজ তুলে ‘টুনির মা ...’ কিংবা সাতদিন ধরে ‘মাতা কি জাগরণে’ লাউড স্পিকারের সিরিঞ্জ দিয়ে কান পথে যে প্রবল ধর্মানুভুতি প্রবেশ করানোর অত্যাচার চলে ,সে অভিজ্ঞতা সবারই রয়েছে । রয়েছে মহরমের শোক ব্যক্ত করার অভিনব ‘ডিজে’ আক্রান্ত সংস্কৃতি ,হিন্দুদের তো প্রতি সপ্তাহে একটি করে পুজো আর চার আনা হোক আট আনা হোক , বাড়ির হোক বারোয়ারী হোক নিদেনপক্ষে একটা ব্যাঞ্জো এনে , ব্যান্ডপার্টি এনে তীব্র শব্দ সৃষ্টি করে পরিবেশ অসুস্থ না করলে ঠিক ধার্মিক হওয়া যায় না ! বলি ঈশ্বর কি কানে খাটো ? এর কি কোনো সত্যি দরকার আছে ?
তাই কেউ বিরক্ত হলে সে বলতেই পারে , আপত্তি করতেই পারে - এটা তো মানবেন, নিরিবিলি ,শান্ত পরিবেশ সবারই কাম্য ! আমার কথা অনুযায়ীই একটি এলাকার শাব্দিক আবহ থাকলেও তা পরিমার্জিত ,পরিশীলিত হতে বাধা কোথায়? নাই বা থাকলো ধর্ম স্থানে লাউড স্পিকার!ঈশ্বরকে একটু শান্তিতে থাকতে দিন । 
যতদূর আমার ঈশ্বর-বোধ ,তাতে ঈশ্বর বেশ সৌম্য ,শান্ত বিচক্ষণ ও রুচিশীল ব্যক্তিত্ব, এসব মোটা দাগের ব্যাপার তাঁর পছন্দের হতে পারে না। আসুননা আরও একটু মার্জিত হই...

Comments

Popular posts from this blog

অধর্ম

[ আমরা কেউ ধর্মে বিশ্বাস করি, কেউ হয়তো ধর্মকে পরিত্যাগ করিনি, কিন্তু ধর্ম নিয়ে মাথাও ঘামাই না, কেউ কট্টর নাস্তিক আবার কেউ বা ধর্মনিরপেক্ষ - কিন্তু একটা জায়গায় আমাদের গভীর মিল আছে, আমরা সবাই বাকস্বাধীনতায় প্রবলভাবে বিশ্বাসী। আর সেই জন্যই রাজীব হায়দার, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান, অনন্ত বিজয় দাস, নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়রা যে কথাগুলো বলতে চেয়ে প্রাণ হারালেন, সে কথাগুলো যাতে হারিয়ে না যায় তার জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাব। ওঁদের সঙ্গে আমাদের মতাদর্শের মিল আছে কি নেই সেটা এই মুহূর্তে অবান্তর প্রশ্ন। কিন্তু মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সমর্থনে সারা বিশ্ব জুড়ে একাধিক ব্লগার কিবোর্ড নিয়ে বসেছেন, সেই লেখাগুলো সঙ্কলিত করে দেওয়া হল পাঠকদের জন্য - তালিকাটি দেখা যাবে এই ব্লগপোস্টের শেষে।]    কি বলি বলুন তো  !এমন কিছু নতুন তো বলতে পারছি না যা আগে শোনেননি বা পড়েননি । এই নির্দিষ্ট  বিষয় নিয়ে হাজার হাজার শব্দ উচ্চারিত হয়েছে , লেখা হয়েছে । কেউ কিছু একটা লিখবে ,তার মতে , তার বিশ্বাস থেকে কিংবা বলবে- অমনি ঘাড়ে পড়বে 'চাপাতি' ! বেশ নাম ডাক হয়েছে ইদানীং এই যন্ত্রটির । কুপিয়ে দিয়ে তবে...

ধর্ম ও ষাঁড়

...মুশকিল হচ্ছে  ব্যাজার বকার ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম কানুন আছে । নিয়ম বা কানুন ততোটাই, যতটা মানা যায় , এখন  এই ষাঁড়ই বলুন আর ধর্মই বলুন  এরাও ওই নিয়মের মতোই - ঠিক যতটা আপনি মানবেন । কি একটু সন্দেহ হচ্ছে তো! মনে করছেন ব্যাটা নির্ঘাত নেশা করে কি বোর্ড থাবড়াচ্ছে !  না: , বিলকুল হোশ আউর আওয়াজ মে ... হতে পারে এটা একটা আগামী দুর্গাপূজার থিম হতে চলেছে। ষাঁড়ের ব্যাপারটা নিয়ে প্রথমে মাথা ঘামিয়ে দেখলাম , হ্যাঁ ঠিক তাই ! সেই একই রকম আপাত শান্ত  দূর থেকে কিন্তু যেইনা কাছে গেছেন মেজাজ দেখিয়ে বিচ্ছিরি ব্যাবহার করবে । একান্ত শিং এ তুলে থ্রো না করলেও খুব রুঢ় ব্যাবহার করবেই । একমাত্র গাই দেখলে ও মুফতের আনাজপাতি দেখলে এনারা একটু বিগলিত হন । তখন হাঁকপাঁক করে এক খাবল আনাজ তুলে নিয়ে মাথা নেড়ে টেরে দুল্কিচালে চলে যান , গাই দেখলে বেশ স্পোর্টি হয়ে লাফ-ঝাঁপ করতে থাকেন । খবরদার ! এই সময়ে ত্রিসীমানায় থাকবেন না , তাহলে হাওয়া টাইট ।  এদিকে ধর্মেরও আবার দুটো কান, দুটো শিং , এবং  এঁড়ে ! দুকানে যদি তেমন অধর্মের কথা শোনে অনেকটা লাল কাপড় বা ছাতা খোলা দেখে ষাঁড়ের মতোই শিং বাগিয়ে তেড়ে আ...